বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বের ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন, অথচ ওই সময়ে তাঁদের জন্য তৈরি হবে মাত্র ৪০ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮০ কোটি। ১৬ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এই পূর্বাভাস দেন তিনি। প্রথম আলোর সংবাদ অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে ভাষণের অনুলিপি পাঠানো হয়।
এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। যে দেশে সাড়ে সাত কোটির বেশি মানুষ, যেখানে অর্ধেকের বেশি নাগরিক তরুণ, সেখানে এই বার্তা একটি জাতীয় সতর্কতা। ১৯৭১ সালে আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আজও অসম্পূর্ণ। সেই অসম্পূর্ণতার বড় পরীক্ষাই হলো কর্মসংস্থান।
অজয় বাঙ্গা কী বলেছেন
বিশ্বব্যাংক প্রধান তাঁর ভাষণে বলেন, কর্মসংস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্যাপক পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি জানান, সংঘাত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হওয়া, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও সারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্যের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে অজয় বাঙ্গা আশার বাণী দেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের ঘাটতি একটি পূর্বাভাস, এটি অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়। সরকারি অর্থ, বেসরকারি পুঁজি, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। পরবর্তী প্রজন্তির প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন উদ্যোগের পরিসর ও গতি, দুটিই বাড়াতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব সংস্কার
অজয় বাঙ্গা জানান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাস করা হয়েছে। যেখানে বিনিয়োগ করলে ফল আসবে, এমন অর্থায়নের পরিমাণ মোট অর্থায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে বাড়িয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। এ ছাড়া এক দশকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়ানো হয়েছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করেছিল, গত বছর তা বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট অর্থায়নের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২৩০ বিলিয়ন ডলার।
তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বাণিজ্যিক পুঁজি আকর্ষণ এখনো কঠিন বলে উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংক প্রধান। এসব দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) গুরুত্ব তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, বড় ক্রেতা ও বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের নিয়মকানুন সহজ করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী
এই বার্তার সামনে আমাদের চোখ খুলে তাকাতেই হবে। বাংলাদেশ একটি তরুণ জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা এই জনপ্রজন্তির স্বপ্ন শুধু একটি চাকরির নয়, মর্যাদার জীবনের। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ কর্মবাজারে নামছেন, অথচ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে দেখা যাচ্ছে প্রশ্নফাঁস আর দুর্নীতির কেলেঙ্কারি। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে, যা আমাদের
