অফার লেটার হাতে আসার পরই শুরু হয় বিদেশযাত্রার আসল পরীক্ষা। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভর্তির শর্ত পূরণ, টিউশন ফি জমা এবং স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে সামান্য ভুল বা সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়াই বাতিল হয়ে যেতে পারে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। তাই অফার লেটার পাওয়ার পর থেকেই প্রতিটি ধাপ গুছিয়ে এগোনো জরুরি।
আমাদের তরুণরা আজ শিক্ষার্থে বিশ্বের দরজায় কড়া নাড়ছে। ১৯৭১ সালে যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই জাতির সন্তানরা জ্ঞানের সন্ধানে দেশের বাইরে যাচ্ছে, এটা আমাদের গৌরবের বিষয়। কিন্তু এই গৌরবের পথে ঘাতপ্রতিঘাতও কম নয়। প্রতারণা, ভুয়া এজেন্সি আর অস্বচ্ছ লেনদেনে অনেক পরিবার জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছে। সচেতন হওয়াটাই আজকের বাধ্যতম কর্তব্য।
অফার লেটার পাওয়ার পর প্রথম করণীয়
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়ার পর সবার আগে শর্তগুলো ভালো করে পড়তে হবে। অফারটি নিঃশর্ত নাকি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে দেওয়া, তা যাচাই করা জরুরি। একাডেমিক ফলাফল, ইংরেজি দক্ষতার সনদ কিংবা কোনো নথি জমার শর্ত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে হবে।
টিউশন ফির অগ্রিম অংশ এবং অর্থ জমার শেষ তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। যে কোনো অর্থ জমা দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা ভর্তি দপ্তরের মাধ্যমে অফারের সত্যতা যাচাই করা উচিত। এই সত্যায়ন ছাড়া এগোনো মানে নিজের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলা।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে যা লাগবে
দেশভেদে ভিসার নিয়ম আলাদা। সাধারণত পাসপোর্ট, ভর্তিসংক্রান্ত নথি, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, শিক্ষাগত সনদ ও ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। কোনো কোনো দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বায়োমেট্রিকস বা সাক্ষাৎকারেরও প্রয়োজন হতে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ নির্দেশনা সংগ্রহ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ব্যাংকে টাকা থাকলেই চলে না। অর্থের উৎস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পনসরের আয় ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রমাণসহ নির্দিষ্ট নথি চাইতে পারে ভিসা কর্তৃপক্ষ। কোন ধরনের আর্থিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য, কত দিনের লেনদেনের বিবরণ লাগবে এবং কত অর্থ দেখাতে হবে, সবই দেশভেদে ভিন্ন। নিজে যাচাই না করে কারও কথায় ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণগুলো কী?
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে চিহ্নিত হয়েছে কয়েকটি সাধারণ ভুল। আবেদনে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি, আর্থিক সক্ষমতার অপর্যাপ্ত প্রমাণ কিংবা বিভিন্ন নথিতে অসংগতিপূর্ণ তথ্য ভিসা আবেদনকে জটিল করে তোলে। সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হলে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের কারণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
পিএফইসি গ্লোবালের ডেস্টিনেশন ম্যানেজার (উত্তর আমেরিকা ও আয়ারল্যান্ড) মিঠুন পাল প্রথম আলোকে বলেন, অফার লেটারের শর্ত, টিউশন ফি, বৃত্তি ও কাগজপত্র জমার সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। ভিসার আবেদনে পাসপোর্ট, একাডেমিক সনদ, ভর্তিসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।
মিঠুন পাল আরও বলেন, এজেন্সি নির্বাচনের আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও সেবার শর্ত যাচাই করা এবং অফার লেটারের সত্যতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
এজেন্সির ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়
শিক্ষাপরামর্শক বা এজেন্সির সহায়তা নিতে চাইলে আগে তাদের অভিজ্ঞতা, সেবার পরিধি ও খরচ জেনে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের দাবি থাকলে তা যাচাই করতে হবে। ভুয়া অফার লেটার, অস্পষ্ট চুক্তি, অস্বাভাবিক ফি কিংবা দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ভর্তি ও অর্থ জমার তথ্য নিশ্চিত করুন। ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত করার দাবি কেউ করলে সেটিই যেন সতর্কতার প্রথম ঘণ্টা হয়ে বাজে। আমাদের সমাজে বিদেশযাত্রার নামে প্রতারণার ঘটনা কম নয়; একটি পরিবারের সর্বস্ব যেন প্রতারকের ভাগের টুকরো না হয়, সে দায়িত্ব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েরই।
ভিসা পাওয়ার পরের প্রস্তুতি
ভিসা হাতে আসার পরও কাজ কম নেই। আবাসন, বিমান টিকিট, স্বাস্থ্যবিমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাতায়াতের পরিকল্পনা আগেই সাজাতে হবে। পাসপোর্ট, ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথির ডিজিটাল ও মুদ্রিত কপি সঙ্গে রাখা ভালো। ক্লাস শুরুর তারিখ ও গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়সীমা যাচাই করে তবেই টিকিট কাটা উচিত।
দেশের তরুণদের জন্য বার্তা
আমাদের অর্থনীতিতে তরুণ জনশক্তির চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
