জঙ্গলের পাশে রিসোর্টে 'মধুচক্র'? কীভাবে রমরমিয়ে চলছিল 'গোপন কারবার'! জানতে পেরে থ পুলিস
গরুমারা জঙ্গলের পাশে একটি বেসরকারি রিসোর্টে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল। রবিবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মোট ৮ জনকে আটক করেছে মালবাজার থানার পুলিস। আটকদের মধ্যে অসমের পাঁচজন পুরুষ এবং শিলিগুড়ি থেকে আসা তিনজন মহিলা রয়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেই এই চক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুমারা জঙ্গলের সংলগ্ন বেশ কিছু রিসোর্টে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি কার্যকলাপ চলার অভিযোগ পুলিসের কাছে আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি শুরু করে মালবাজার থানার পুলিস। নজরদারি চালাতে গিয়ে পুলিস বেশ কিছু তথ্য পায় বলে জানা গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট ওই বেসরকারি রিসোর্টটিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর রবিবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
রিসোর্টের বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি
অভিযানের সময় রিসোর্টের একাধিক ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিস। সেখান থেকেই মোট আটজনকে আটক করা হয় বলে পুলিস সূত্রে খবর। প্রাথমিকভাবে পুলিস জানতে পেরেছে, আটক পাঁচজন পুরুষ অসমের বাসিন্দা। অন্যদিকে, আটক তিনজন মহিলা শিলিগুড়ি থেকে ওই রিসোর্টে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অভিযোগ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেই এই চক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল। তবে ঠিক কীভাবে গোটা কার্যকলাপ চলত, কারা এর পিছনে ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি
পুলিস সূত্রে দাবি, গরুমারা জঙ্গলের আশপাশের কয়েকটি রিসোর্টে বেআইনি কাজকর্ম চলার অভিযোগ আগেও পুলিসের কাছে এসেছিল। সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ওই এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। নজরদারির সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রিসোর্টের উপর নজরদারি শুরু হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ওই রিসোর্টে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে চলছিল এই কার্যকলাপ?
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, রিসোর্টে কীভাবে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল। কারা রিসোর্টটি ব্যবহার করত, কারা যোগাযোগ করত, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ রাখা হত এবং এই ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে মালবাজার থানার পুলিস।
পর্যটন মহলে উদ্বেগ
গরুমারা জঙ্গলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের পাশে থাকা রিসোর্টে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় পর্যটন মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 'ডুয়ার্স এক্সপ্রেস মেল'-এর সম্পাদক রাজু নেপালি পুলিসের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ডুয়ার্সে পর্যটকেরা মূলত হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখতে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। রাজু নেপালি বলেন, জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী রিসোর্টে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চলতে থাকলে ডুয়ার্সের পরিবেশ এবং পর্যটন সংস্কৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর মতে, এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিসের এই অভিযানের ফলে জঙ্গলের আশপাশের রিসোর্টগুলিতে বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হবে এবং ডুয়ার্সের পর্যটন পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।