রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কয়েকটি এলাকা ও কলকারখানায় ইচ্ছাকৃতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে এই জনসভায় তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে সরকারের হাতে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং পলাতক স্বৈরাচারই এ অস্থিরতা ছড়াতে অর্থ দিচ্ছে। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্কিত করে বলেন, নির্বাচনের আগে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দল এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে।
একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি উসকানিতে অস্থিরতা তৈরির যে ইতিহাস আমরা বারবার দেখেছি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সেই পুরনো অভিজ্ঞতার আলোতেই প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের মানুষের কাছে একটি সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।
সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ, ভেতরে অস্থিরতার চেষ্টা
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোজাসুজি বলেন, যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, সে সীমান্তের ওপার থেকে টাকা পাঠাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সে কাদের সাহায্যে এ কাজ করছে।
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে... কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে, নিরাপত্তা বাড়াতে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। কিন্তু কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়ার সময়ও একই ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। জাতির এই পথিকৃৎদের প্রতি আঘাত মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরেই আঘাত, এ কথা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে ধারণ করে
জনসভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিদায় নেওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করার কথা বলে এমন সব রাজনৈতিক দলকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্কিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছিল, ঠিক একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তাদের মুখের কথা এক, কর্মের প্রতিফলন আরেক।
এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তারাই পরবর্তীকালে বিভিন্ন রূপে দেশের সামনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। বিএনপির মূল স্লোগানগুলো যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি, তেমনি দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখেই রাজনীতি করার কথা বলে আসছে।
পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা
রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি সরকার। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে।
নদীর পানি নিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বারবার যে অমীমাংসিত টানাপোড়েন চলেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিস্তার পানি আদায়ের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। এবার সরকারের এই ঘোষণা উত্তরবঙ্গের কৃষক ও নদীনির্ভর মানুষের কাছে নতুন আশার সংকেত দিতে পারে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, পানির ন্যায্য হিস্যা ছাড়া তা অধরাই থেকে যাবে। এ বিষয়ে আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দেশের
